দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্রের সন্ধান দিতে জনগণের সহযোগিতা চেয়েছে র্যাব। এসব অস্ত্রের তথ্য দিয়ে উদ্ধারে সহযোগিতা করলে গোপনে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের চান্দগাঁওয়ে র্যাব-৭-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্রের প্রায় ৮৪ শতাংশ এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১৬ শতাংশ অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তা সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে র্যাবের নেতৃত্বে বিশেষ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। কারও কাছে এমন অস্ত্র থাকলে তা র্যাবের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘যাদের কাছে অস্ত্র রয়েছে, তাদের সবাই অপরাধী এমন নন। বিভিন্নভাবে অনেকের কাছে অস্ত্র চলে আসতে পারে। কেউ অস্ত্রটি কোথায় বা কীভাবে জমা দেবেন, তা নিয়ে ভয় পেতে পারেন। তাদের জন্য এটি একটি সুযোগ। গোপনে অস্ত্রের তথ্য দিলে বা উদ্ধারে সহযোগিতা করলে পুরস্কার দেওয়া হবে।’
পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র পাওয়া গেলেও সেটি নিজে বহন না করে র্যাবকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। তথ্য পেলে র্যাবের সদস্যরা গিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করবেন বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় সম্প্রতি অপহরণের অভিযোগের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন র্যাব-৭ অধিনায়ক।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে তিনটি অপহরণের অভিযোগে র্যাবের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালিয়েছেন। পরে তদন্তে একটি ঘটনায় দেখা যায়, অনলাইন জুয়ায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত এক ব্যক্তি পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য নিজেকে অপহৃত হিসেবে সাজিয়েছেন।
অন্য একটি ঘটনায় এক ব্যক্তি বান্দরবানের লামায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন। আরেকজন পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘র্যাব একটি বিশেষায়িত বাহিনী। সংবেদনশীল অভিযোগ পেলে আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে মিথ্যা বা সাজানো অভিযোগের পেছনে দীর্ঘসময় ব্যয় হলে প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের ঘটনায় র্যাবের জনবল ও সক্ষমতা ব্যবহারে সমস্যা হয়। তাই প্রকৃত ঘটনা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।’
জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, এলাকাটি র্যাবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগের বিষয়। সেখানে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুর থেকে র্যাবের ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হবে না বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশিদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করেছেন র্যাব-৭ অধিনায়ক।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশিদের যাতায়াত বেশি। এ সুযোগে অপরাধীরা ছদ্মবেশে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
এমএম/